মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্যাতনের স্বীকার রিফাত এখন নিথর শিশু!

মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্যাতনের স্বীকার রিফাত এখন নিথর শিশু! অর্থ দিয়ে অপরাধ লোপাট
আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোরঃ-
যে বয়সে একটি শিশু পড়াশোনা-খেলাধুলায় ব্যাস্ত থাকবে! বাড়ি মাতিয়ে রাখবে,বাবা-মায়ের গোছালো কাজগুলি এলোমেলো করে তাদের হাতের লাটির ভয়ে দৌড়ে পালাবে! হঠাৎ বাইরে থেকে বাড়িতে প্রবেশের মুহূর্তে মা মা মা বলে চিৎকার করে এসে মায়ের আচলের তলে লুকাবে! ঠিক সেই বয়সে রিফাত হোসেন(৯) নামের মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রটি বাড়িতেই কোন রকম চলাফেরা করে,তবে বলতে পারেনা কথা! যদিও খুব কষ্টে ১/২টা কথা বলে কিন্তু রিফাত তার ঘাড় সোজা রাখতে পারেনা।কেউ কিছু বললে চোখ দিয়ে শুধুই পানি গড়িয়ে পড়ে আর ফ্যাল ফ্যাল চোখে নিজের কষ্ট প্রকাশ করে। প্রতিদিন একবার মাথা ঘুরে হঠাৎ বমি করে শারীরিক ভাবে নিথর হয়ে পড়ে রিফাতের।চলতি মাসের ২য় সপ্তাহে যশোরের মণিরামপুর পৌরশহরে অবস্থিত দারুল উলুম ইলাহী বখ্শ মাদ্রাসার শিক্ষক দ্বীন ইসলামের পৈশাচিক আঘাতে আহত হয়ে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া ঢাকার নিউরো সাইন্স হসপিটালের ডাক্তারের তথ্যমতে,রিফাতকে বেশ উঁচু হতে মাথা সহ ঘাড় এক করে নিচে (মেঝোতে) হেবিওয়েট পেশি শক্তি প্রয়োগে চাপ দেওয়াতে ঘাড়ের ডান পাশের কয়েকটি শিরা ক্ষতিগ্রস্তের কারনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (ব্রেইনস্টোক) হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে,মণিরামপুর পৌরসভার তাহেরপুরে বসবাস করা বাবা রাজমিস্ত্রির হেলপার আকবার হোসোন ও অন্যের বাসা বাড়িতে শ্রমজীবী মা নুরজাহান (নূরী) ছেলে মোঃ রিফাত হোসেন’কে (৯) দ্বীনই শিক্ষা অর্জনে পৌরশহরের পশু হাসপাতাল সংলগ্ন দারুল উলুম ইলাহী বখ্শ মাদ্রাসায় ভর্তি করেন।
ঘঠনার দিন চলতি মাসের ২য় সপ্তাহে চলমান নিয়মিত পাঠদানের সময়ে একই শ্রেনীর দুই শিক্ষার্থীর দুষ্ট মীর দৃশ্য চোখে পড়াতে শ্রেণী শিক্ষক মোঃ দ্বীন ইসলাম(যশোরী হুজুর)মানবিক দিকবিদিকশুন্য হয়ে শিশু রিফাতের উপর ক্ষিপ্র বল প্রয়োগে পশুর মতো আক্রমণ করে। মুহূর্তে শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়লে বিপদ বুঝে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এ বিষয় বদলে অসাবধানতাবসত রিফাত নিজেই পড়ে আহত হয়ে গেছে বলে প্রচার করতে বলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি জীবন-মৃত্যু সন্ধিক্ষণে থাকা রিফাত খুব কষ্টে দুই একটি কথা ও দুই হাত দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে,তাকে এক হাতে গলা ধরে মাথার উপরে তুলে নিচে(মেঝোতে) চেপে ধরে ঐ শিক্ষক।
তথ্য আছে যে,ঘঠনার পরপরই রিফাতের বাড়িতে খবর দিলে প্রথমে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেদিনই অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকার নিউরো সাইন্স হসপিটালে কয়েকদিন চিকিৎসা নিলে শিশুটির(রিফাত) দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কথা শুনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের দারীদ্রতার সুযোগ নিয়ে চিকিৎসা বাবদ সামান্য কিছু নগত অর্থ দিয়ে সাময়িক মুখ বন্ধ রাখে। এদিকে অর্থ সংকটে ঢাকা হতে বাড়িতে রেখে মন বোঝানো নাম মাত্র চিকিৎসা চলমান থাকা অবস্থায় যেনো স্থানীয়রা কেউ কিছু না বলে তার জন্য মাদ্রাসা হতে মাঝে মাঝে প্যাকেটে ১/২ কেজি আপেল দিয়ে খোজ নিয়ে চলেছে রিফাতের। এ সমস্ত দেখেও না দেখার ছলে ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীদের প্রভাববিস্তারের কারনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,অভিভাবক শ্রেনী এমনকি গণমাধ্যমের উপজেলার শীর্ষ স্থানীয় সাংবাদিকেরা চোখে কাঠের চশমা পরেছে বলে চলতি এ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। খোঁজ নিতে রিফাতের বাড়ি তাহেরপুর গেলে শিশুটির মা নূরী জানান, হুজুরেরা যা দিয়েছেন তা শেষ হয়ে গেছে। রিফাতের বাপ দিনমজুর আরো ঋণগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে। মাদ্রাসার লোকজন খবর নেছে,এ ছাড়াও বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা তুলে চিকিৎসা চলছে। নূরী এ সময় অভিযোগ করে,এখনো আমার ছেলেটা দৈনিক বমী করছে,আগে তো আরো বেশি করতো। একটা শিশুকে এইভাবে কি মানুষ মারতে পারে!
তবে দুঃখজনক হলো সোস্যাল মিডিয়ায় নির্যাতিত মাদ্রাসা শিক্ষকের দ্বারা নির্যাতিত রিফাতের ছবি সম্বলিত একটি পোস্টে ব্যাংক একাউন্ট উল্লেখ করে অর্থ সংকটে মৃত্যু পথযাত্রী শিশুটির চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চেয়েছে স্বজনেরা।রিফাতের বাড়ির এলাকা তাহেরপুর সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে চাঁদা তুলে অর্থের যোগান দিতে হচ্ছে বলে ৫০টাকা চাঁদা দেওয়া মধুমিতা সিনেমা হল গেটের চায়ের দোকানী বিশ্বজিৎ দাস নিজেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃ দ্বীন ইসলামের সাথে দেখা করতে প্রতিষ্ঠানে গেলে তাকে না পাওয়া গেলেও অফিস সহকারি নাসিম খানের দেওয়া নাম্বারে কথা হলে নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করলেও দায় এড়িয়ে বলেন,আমার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এটা দেখাশোনা করছে।তাদের সাথে কথা বলেন। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুহতামিম আশফাকুল আনোয়ার ইয়ামিন ওমরাহ পালনে থাকায় তার ছোট ভাই আশরাফ ইয়াসিনের সাথে কথা হলে তিনিও দায় নিতে নারাজ।তিনি জানান,খেলতে যেয়ে অসাবধানতা বসত রিফাত পড়ে যেয়ে আঘাত পেয়েছে।আমরা তার খবর নিয়েছি। চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করেছি।
তবে অভিযোগ আছে,৪/৫ মাস আগেও দারুল উলুম এলাহী বখ্স মাদ্রাসার ২য় তলার ছাঁদ হতে একটি শিশু নিচে পড়ে মারা যায়।সেটাও দূর্ঘটনা বলে দায় এড়িয়ে গেলও রিফাতের ঘঠনায় স্থানীয় অভিভাবক মহল হতাশা প্রকাশ করে বলছেন যে,ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে নিজের সন্তান এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে কি এভাবেই নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে! এর কি কোন বিচার নাই,এভাবেই কি ঝরে যাবে কোমলপ্রাণ!
এদিকে শিশুটিকে ভালো চিকিৎসার জন্য উন্নত হসপিটালে স্থানান্তর না করলে জীবন প্রদীপ যখন তখন নিভে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা নিউরো সাইন্স হসপিটলের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

